ঈদের পরের কর্মসূচি জানাল এনসিপি
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
ঢাকাঃ ঈদুল ফিতরের পর নতুন রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা চালানোর পাশাপাশি, জুলাই অভ্যুত্থান হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে।এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি যখন সংস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নিতে পারছে না, তখন এনসিপি এটি কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চায়। তাদের সংস্কার সমন্বয় কমিটি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে।এনসিপি মনে করে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তাদের দাবি, বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো যেন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা দরকার।
ঈদের পর নতুন কর্মসূচি
ঈদের ছুটির পর এনসিপি দলীয় ঘোষণাপত্র ও মৌলিক কর্মসূচি প্রকাশ করবে। এতে জুলাই অভ্যুত্থান হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টিও তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে।এনসিপির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ঈদের পর দলকে আরও সুসংগঠিত করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কমিটি গঠন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে এনসিপি।একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের পর আমরা সাংগঠনিক বিভাগকে শক্তিশালী করব। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে ধারাবাহিক সমাবেশ ও কর্মসূচি থাকবে। এসব কর্মসূচিতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তিরা, এনসিপির নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।’
নিবন্ধন ইস্যুতে এনসিপির ভাবনা
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে ২০ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম এই গণবিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন। আদালত সেই গণবিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন, যদিও সেটি শুধুমাত্র রিট আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।এনসিপির এক শীর্ষ নেতা প্রথম আলোকে জানান, ‘নিবন্ধন ইস্যুতে আমরা ঈদের পর আদালতের দ্বারস্থ হতে পারি।’ তাদের মতে, ২০ এপ্রিলের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, তা এত অল্প সময়ে সম্ভব নয়। ফলে দলটি বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পর এনসিপির কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কৌশলের দিকে এখন অনেকেরই নজর থাকবে। দলটি আদৌ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।