ভোটেই বাছাই হবে সিলেট নগর বিএনপি’র নেতৃত্ব

চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সত্যবাণী

সিলেট থেকেঃ গেল অক্টোবরেই ছিল টাইমফ্রেম। সিলেট নগর বিএনপি’র সম্মেলন শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বিভাগীয় সমাবেশের কারণে গতি কমে যায়। ওয়ার্ড কাউন্সিল শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে ১০ ডিসেম্বর নিয়ে নানা উত্তাপ-উত্তেজনা। এ কারণে শেষ করা সম্ভব হয়নি নগর বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিল। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির বয়স প্রায় ১৬ মাস। এরই মধ্যে শেষ হয়ে আসছে নগরির ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া।হাতে রয়েছে দ’ুটি ওয়ার্ড। সেগুলোও চূড়ান্ত করা হয়েছে।ইত্যাদি সব মিলিয়ে নগর বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীলরা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করতে চান। নেতারা জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার নগর শাখার আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বৈঠকে বসছেন। আর ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রের কাছে তারিখ চাওয়া হবে।

নগর কমিটির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ‘আমরা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই নগর বিএনপি’র সম্মেলন করতে চাই। তবে, সিদ্বান্ত নেয়া হবে সর্বসম্মতিক্রমে। কেন্দ্রের অনুমতি পেলে আমরা ফেব্রুয়ারিতেই সম্মেলন ও কাউন্সিল আয়োজন করতে প্রস্তুতি শুরু করবো।’ তিনি বলেন, ‘নগরির ১৪ ও ২০নং ওয়ার্ডে কমিটি গঠন এখনো বাকি আছে। এ দু’টি ওয়ার্ডও সম্মেলন ও কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো সময় করা যাবে। এজন্য আমরা নগর শাখার কাউন্সিলের আয়োজন করতে প্রস্তুতি চালাচ্ছি।’
সিলেটে বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় ফলো করা হয় ভিন্ন ফরম্যাট। এখানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ৬ বছর আগে থেকেই এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে সিলেট বিএনপি। এতে আসছে সফলতাও। গ্রহণযোগ্য নেতারাই নেতৃত্ব বাছাইয়ে সৌভাগ্যের দাবিদার হচ্ছেন। গত বছরের মার্চে জেলা শাখার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হয়। এরপর জেলা ও নগর যুবদলের নেতৃত্বও বাছাই করা হয় ভোটের মাধ্যমে।নগর শাখার নেতারা জানিয়েছেন, দলের নগর শাখা বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে। ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগর শাখার পুরাতন কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নগর কমিটি নগরির ২৭টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠনের পর ভোটের মাধ্যমে ওয়ার্ড কমিটি গঠন শুরু করে। কিন্তু পর পর দু’দফা বন্যা, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনসহ নানা কারণে নগর শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলের দিকে যেতে পারেনি। তবে, এবার তণমূলে যে কাজ হয়েছে সেটি অনুকরণীয়।
নেতাদের মতে, পাড়া-মহল্লার কমিটি গঠনের পর ওয়ার্ড সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। এতে প্রায় সব ওয়ার্ডে গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। নগরির প্রায় সব ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করায় নগর শাখার নতুন নেতৃত্ব বাছাই হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে। ভোটে নির্বাচিতরাই আসবেন নেতৃত্বে। এ কারণে নগর শাখার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী নেতারাও এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

নগর নেতারা জানিয়েছেন, দলের নগর শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রের অনুমতি পেলে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক পদেও ভোট হতে পারে। জেলা শাখার সম্মেলনে শেষ মুহূর্তে ওই দু’টি পদে ভোট গ্রহণ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মাঠে কাজ করছেন।দীর্ঘদিন প্রবাসে ও দেশে ঝিমিয়ে থাকা নেতারা সক্রিয় হওয়ার কারণে এবার দলের নগর কমিটির নেতৃত্ব বাছাইয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শীর্ষ নেতা। এজন্য সিলেটের এই সম্মেলন ও কাউন্সিলকে দলীয়ভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।এদিকে দলীয় নেতাদের মতে, আন্দোলনে সিলেট নগর বিএনপি’র বর্তমান নেতৃত্ব সরব রয়েছে। এখন নগর শাখার কর্মকা-ে ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যায়ের নেতারা এসে সক্রিয় হচ্ছেন। এ কারণে মাঠের রাজনীতিতেও লোক সমাগম বেশি হচ্ছে। এই ধারা বজায় রাখতে হলে নির্বাচিত নেতৃত্ব সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

You might also like