শুরু হয়েছে ব্রিক লেনে ফুড ফেস্টিভ্যাল, চলবে পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে

নিউজডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডনঃ শুরু হয়েছে ব্রিক লেন ফুড ফেস্টিভ্যাল। ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই খাদ্য উৎসবে ভোজন রসিকদের জন্য তৈরী করা বিশেষ মেন্যূতে রয়েছে খাঁটি বা অকৃত্রিম বাংলাদেশী এবং বিশেষ করে সিলেটী ডিশসমূহ।মহামারীর প্রভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে পূণরুদ্ধার করতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নানামুখি সহায়তামূলক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আয়োজিত ব্রিক লেন ফুড ফেস্টিভ্যালে অংশ নিচ্ছে বাংলাটাউনের ১১টি রেস্টুরেন্ট।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই খাদ্য উৎসব চলবে গোটা ডিসেম্বর মাস এবং নতুন বছরের কয়েকদিন।কোন্ কোন্ রেস্টুরেন্ট কী কী অথেনটিক ডিশসমূহ নিয়ে এই ফুড ফেস্টিভ্যালে অংশ নিচ্ছে, তা জানতে ভিজিট করুন- www.bricklaneeats.co.uk । লকডাউন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহায়তা করতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মাইক্রোসাইটটি কাউন্সিল স্পন্সর করেছে।ব্রিক লেন ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনকালে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস বলেন, লন্ডনের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক আইকনিক ব্রিক লেনে লোকজনকে ফিরিয়ে আনতে এই ফুড ফেস্টিভ্যাল একটি চমৎকার এবং উদ্ভাবনী উপায়। মহামারীর কারণে আমাদের হসপিটালিটি বিজনেস অর্থাৎ রেস্টুরেন্ট ক্যাফেগুলো অত্যন্ত কঠিন সময় কাটিয়েছে। তাদেরকে সহযোগিতা করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্ঠা করে যাচ্ছি। যারমধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত নিরাপদ স্থান প্রদানের লক্ষ্যে আউটডোর ডাইনিং এরিয়া স্থাপন করা এবং পশ্চিম রোমান রোডের দোকানপাটের নমুন সম্মুখভাগ উন্নয়নে বিনিয়োগ সহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ।

ডেপুটি মেয়র এবং কেবিনেট মেম্বার ফর ওয়ার্ক, ইকনোমিক গ্রোথ এন্ড ফেইথ, কাউন্সিলর মতিন উজ্-জামান বলেন, ব্রিক লেন ফুড ফেস্টিভ্যালের সূচনা করতে পেরে এবং উৎসব মেনু থেকে সুস্বাদু কিছু খাবারের স্বাদ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। গোটা কমিউনিটি এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করায় এই মাস ব্রিক লেন বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হবে। তিনি বলেন, এই এলাকার উন্নয়নে কাউন্সিল অব্যাহতভাবে বিনিয়োগ করে চলেছে। বাংলাটাউন আর্চ হিসেবে পরিচিত গেটটির আধুনিকায়ন এবং কমিউনিটি ম্যুরাল স্থাপনেরও কাজ এগিয়ে চলছে।ফুড ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কে মন্তব্যকালে বাংলা টাউন রেস্টুরেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, গুলজার খান বলেন, ইউকের বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রাণকেন্দ্র ব্রিক লেনে এই বাংলাদেশী খাদ্য উৎসবের আয়োজন করতে পেরে আমরা পুলকিত। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরাও উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। বাংলাদেশী মালিকানাধীন সব কটি কারী হাউজ এই উৎসবে অথেনটিক বাংলাদেশী খাবারের আইটেম বা ডিশ ভোজনরসিকদের জন্য উপস্থাপন করবে।
তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসার সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হচ্ছে ক্রিসমাসের সময়কাল। বাংলাদেশী আতিথেয়তার সাথে ঘরে তৈরীর মতো মুখরোচক নানা খাবারের সহযোগে আমরা  এই উৎসবকালীন সময়কে উদযাপন করতে চাই। উৎসব মেন্যুতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন সকল মশলা ও স্বাদ-গন্ধে ভরপুর নানা আইটেম। আমি এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এই উৎসবকালীন সময়ের সন্ধ্যাগুলো যারা ব্রিক লেনে কাটাবেন, তারা বাংলাদেশী খাদ্য-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা সম্পর্কে এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপনের অংশ হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।ব্রিক লেন ফুড ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে হলে ভিজিট করুন – www.bricklaneeats.co.uk

You might also like