সাংবাদিক আশিক মোহাম্মদের ইন্তেকাল, লন্ডনেই চিরনিদ্রায় শায়িত

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী 

লন্ডন: লন্ডনেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সাবেক সাব এডিটর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক আশিক মোহাম্মদ। শনিবার স্থানীয় সময় বাদ জোহর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে ফরেষ্টগেইট কবরস্থানে তাঁকে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয়।

১৩ জানুয়ারি শুক্রবার লন্ডন সময় ভোর ৪ টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়) পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীণ এলাকার হ্যাকনি রোডস্থ বাসায় ইন্তেকাল করেন আশিক মোহাম্মদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ বছর বয়সী একমাত্র পুত্র, মা ও ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসে ও দেশে অবস্থানরত তার সাবেক সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনরা শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন।

যুক্তরাজ্যে আসার পর আশিক মোহাম্মদ প্রাচীনতম পত্রিকা সাপ্তাহিক জনমত-এও কিছু দিন কাজ করেন। পরবর্তীতে রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায় জড়িত হন। এই ব্যবসার সুবাদে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরেই কেটেছে তার প্রবাস জীবনের বেশিরভাগ সময়। সংসার জীবন শুরু করার পর গত কয়েক বছর আগে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে ৪ বছরের ফারাজকে নিয়ে লন্ডনে স্থায়ী হয়েছিলেন। শেষবারের মত চোখের দেখা দেখতে মাস দুয়েক আগে দেশ থেকে তার আম্মা ও এক ছোট ভাইকে আনার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় মা ছেলের দেখা আর হয়নি।
আশিকের দীর্ঘদিনের সহকর্মী সাংবাদিক মাহবুব রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন আশিক। লড়ছিলেন স্পাইন (মেরুদন্ড) ক্যান্সারের সাথে। পূর্ব লন্ডনের রয়েল লন্ডন হাসপাতালে প্রায় ৭/৮ মাস একটানা ভর্তি ছিলেন। অনেকটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে উজ্জীবিত আশিক তার মাকে নিয়ে সৌদিআরবে উমরাহ করার পরিকল্পনা করছিলেন। ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহের জন্য তাকে যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু এবার লড়াইয়ে হারতে থাকেন তিনি। জীবনের শেষ সময়টা স্বজন পরিজনদের সাথে পারিবারিক পরিবেশে কাটানোর জন্য সপ্তাহ কয়েক আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর ৪টায় তিনি পাড়ি জমান অন্যলোকে।

আশিক মোহাম্মদ ১৯৮৬ সালে সাপ্তাহিক সিলেট বাণীতে কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে তিনি তার নিজ এলাকা লালাবাজার এলাকার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রেরণ করতেন। এক পর্যায়ে সাপ্তাহিক সিলেট বাণী দৈনিকে রূপান্তর হলে সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর নব্বই সালের দিকে তিনি সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাক-এ যোগ দেন। এ পত্রিকায় দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মূলত কারেন্ট ইভেন্ট কাভার করতেন। যে কারণে রাজনীতিবিদ-প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছিল তার গভীর সখ্যতা। তিনি ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবেরও সদস্য।
১৯৯৮ সালে তিনি বিলেতে পাড়ি জমান। তিনি ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য। লন্ডনের সাংবাদিক মহলে অগ্রজ সাংবাদিক হিসাবেই তার খ্যাতি ছিল। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

You might also like