সুরমা-কুশিয়ারা ৪টি পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার ওপরেঃ দক্ষিণ সুরমায় পাড়া-মহল্লায় জমে আছে পানিঃ মৌলভীবাজারে পানি নামছে ধীর গতিতে

চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সত্যবাণী

সিলেট থেকেঃ সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ৪টি পয়েন্টে এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি গত রোববার রাতে হঠাৎ বেড়ে গেলেও গত সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।গতকাল মঙ্গলবারও একই অবস্থা বিদ্যমান ছিল।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পানি কমছে ধীরগতিতে। ভাটির দিকে অর্থাৎ সুনামগঞ্জে পানি বেশি থাকায় সিলেট থেকে পানি নামতে সময় লাগছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পানি নেমে যাবে।এ ব্যাপারে ভয়ের কোন কারণ নেই বলেও পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত দু’দিনে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি কমলেও অনেক লোক এখনো পানিবন্দী রয়েছেন। এছাড়া, নগরীর বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে পানি নেমে গেলেও দক্ষিণ সুরমার প্রধান সড়ক বঙ্গবীর রোডের কয়েক স্থানে এবং অনেক পাড়া-মহল্লার ভেতরে পানি জমে আছে। এসব পানিতে ময়লা জমে কালো রং ধারণ করেছে। বাসিন্দারা এসব পানি মাড়িয়েই চলাফেরা করছেন। এছাড়া নগরীর ছড়া-খালগুলোয় ময়লা আবর্জনা পড়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার তৈরি হয়েছে।মৌলভীবাজারে ধীর গতিতে কমছে হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের পানি। এখনও স্বাভাবিক হয়নি জেলার কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার হাওরসংলগ্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।পাউবো সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা আমলসীদে বিপদসীমার ১৫১ সেন্টিমিটার, শেওলায় ৫৩ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জে ১০৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

দক্ষিণ সুরমা থেকে সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। গত দু’দিনে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি কমলেও অনেক লোক এখনো পানিবন্দী রয়েছেন। সড়ক ও রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন নৌকা ও ভেলাযোগে যাতায়াত করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের এাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদের সাথে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্যরাও অক্লান্ত বানভাসি মানুষের সহায়তা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইউএনও নুসরাত লায়লা নীরা জানান, এ পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্তমানে ৭৪টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। সরকারি ত্রাণ হিসেবে এ পর্যন্ত ৯৮ মেট্রিক টন চাল ও ২৩৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার থেকে সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারে ধীর গতিতে কমছে হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের পানি। এখনও স্বাভাবিক হয়নি জেলার কুলাউড়া, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলার হাওরসংলগ্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার বানভাসি মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। নিম্নাঞ্চলের বানভাসিদের দুর্ভোগ এখনও সীমাহীন। বানের পানির তোড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে সড়ক-মহাসড়ক। অপরদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ৪৯ জন, চর্মরোগে ৫০ জন, জ্বরে ১৪ জন, চোখের ভাইরাসে ১২ জন, চোখে আঘাতপ্রাপ্ত ৬ জন, সাপে কাটা ৪ জন, অন্যান্য রোগে ৩৭ জনসহ মোট ১৭২ জন শিশু, নারী ও পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে গত ৮দিনে জেলায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে মোট ৭৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।এদিকে মৌলভীবাজারে সাতটি উপজেলা ও ৪১টি ইউনিয়নের ৫২ হাজার ১১১টি পরিবারের মধ্যে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪’শ সদস্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ১৩ হাজার ২৬০টি ঘরবাড়ি ও ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দীন মোর্শেদ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের ৭৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ৭৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।

You might also like