আবদুল গাফফার চৌধুরীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

তিনি ছিলেন বাঙালির জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কারিগর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত‍্যবাণী

লন্ডন: বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণাদায়ী লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট, একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরীর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় বক্তারা বলেছেন, আবদুল গাফফার চৌধুরীর অবদান কেবল অমর একুশের গান রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর লেখনী ছিল বাঙালির জাতীয় চেতনা, ভাষার অধিকার, স্বাধিকার আন্দোলন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি ছিলেন বাঙালির জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কারিগর, যিনি কলমের মাধ্যমে একটি জাতির স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়কে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব‍্যক্তিত্ব উর্মী মাজহারের উপস্থাপনায় ১৪ই জুন, কেন্দ্রীয় লন্ডনে শেখ মুজিব রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও শহীদ সুলেমান স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব‍্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, লোকমান হোসেইন, ফয়জুর রহমান, হিমাংশু গোস্ব‍ামী, ব‍্যারিষ্টার তানিয়া আমির, কবি শামীম আজাদ, সত‍্যবাণী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, রাজনীতিক হরমুজ আলী, সাংবাদিক বুলবুল হাসান, সাংবাদিক নিলুফা ইয়াসমীন, সংগীত শিল্পী ইমতিয়াজ আহমেদ, কাউন্সিলার সৈয়দা ফেরদৌসী পাশা, নৃত‍্যশিল্পী রুবাইয়াত শারমিন ঝরা ও উদ‍্যোক্তাদের পক্ষে এম এ আজিজ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইমতিয়াজ আহমেদ। কবিতা আবৃত্তি করেন স্মৃতি আজাদ।

প্রয়াত গাফফার চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, ইতিহাসে স্থান পেয়ে অনেকেই গর্বিত হন, কিন্তু কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ আছেন যাঁদের অবদান ধারণ করে ইতিহাসও গর্বিত হয়। আবদুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন বিরল ব্যক্তিত্ব। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন।

আলোচকরা তাঁর কর্মময় জীবন, সাহিত্যকর্ম, সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর আদর্শ, চিন্তা ও রচনাবলি পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্টজন এবং প্রবাসী বাঙালিরা উপস্থিত ছিলেন।

You might also like