ট্রাষ্ট্রিদের উদ্যোগে গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাষ্ট ইউকে‘র বিরোধ নিরসন নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন
মতিয়ার চৌধুরী
সত্যবাণী
লন্ডনঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে‘র দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও চলমান বিরোধের নিরসন কল্পে ট্রাষ্ট্রের গঠনতান্ত্রিক নিয়ন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং সাধারণ ট্রাস্টিদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাষ্টের গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা অনুযায়ী সাধারণ ট্রাষ্ট্রিদের উদ্যোগে এক বিশেষ সাধারণ সভা গত ২ আগস্ট ২০২৬ (রোববার ) ইষ্ট লন্ডনের চিলড্রেন এডুকেশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জহির হুসাইন গৌছ।সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান ও মোঃ শামিম আহমদ।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম।শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি জহির হুসাইন গৌছ এবং জনাব মামুনুর রাশিদ খান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধ, সাংগঠনিক অচলাবস্থা,ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকার ফলে কার্যক্রমে সৃষ্ট স্থবিরতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান,সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ট্রাস্টকে গঠনতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা শেষে উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দ ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে নাম প্রস্তাব করেন। সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাস্টি জনাব আক্তার হুসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আব্দুল আজিজ ফারুক ও ট্রাস্টি রিয়াজ উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসরণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।সেই সাথে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের সর্বশেষ সর্বসম্মত ভাবে গ্রহণযোগ্য সাধারণ সভায় গৃহীত “আলোচ্যসূচি ৮. সংবিধান সংশোধন: (ক) প্যানেল ভোট অথবা স্বাধীন ভাবে ভোট প্রয়োগ করে পছন্দ মত প্রার্থীকে ভোট প্রদানের প্রস্তাব (গৃহীত)। (খ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব (গৃহীত)। এছাড়া “অন্যান্য সিদ্ধান্তসমূহ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাধারণ ট্রাস্টির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারন সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনাব ছিফত আলী আহাদ, মোঃ ফজলুল হক,আব্দুল কাইয়ুম হান্নান,মোঃ মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মোঃ দিলওয়ার হোসেন,সায়াদ আহমদ সাদ,এমদাদ হুসেন টিপু,মাশুক আহমদ,সেলিম আহমেদ খান,দেওয়ান নজরুল ইসলাম,রুহুল কুদ্দুস জুনেদ,সেলিম উদ্দিন চাকলাদার,মাহমুদুর রহমান শানুর,সিব্বির আহমদ,আব্দুস সামাদ, বদরুল আলম বাবুল,আব্দুল কাদির,আমিনুল হক জিল্লু, মোঃ ইকবাল হুসেন,ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মোঃ ফারুক মিয়া, আলম খান,মাসুদ আহমদ জুয়েল,মোঃ লাভলু,মুহিবুর রহমান, আনওয়ার হুসাইন,তালাত ছিদ্দিক,মিসবাহ মাসুম এবং জুবায়ের সিদ্দিকী,সোহেল আহমেদ স্বপন, আব্দুল কুদ্দুস লাভলু, ইকবাল আহমেদ, দেওয়ান আব্দুল বাসিত প্রমুখ।সভায় বক্তারা বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সকল ট্রাস্টির সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাস্টের সকল কার্যক্রম গঠনতন্ত্রের বিধান,পারস্পরিক শ্রদ্ধা,গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। উপস্থিত ট্রাস্টিরা আশা প্রকাশ করেন যে,নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ,সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে,ট্রাস্টের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমসহ ট্রাস্টের সকল কর্মকান্ড সৌহার্দ্যপূর্ণ,স্বচ্ছ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে নতুন উদ্যমে পরিচালিত হবে।ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সাফল্য, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।