ফেয়ারলপ ওয়াটার কাউন্ট্রি পার্কে হরাইজন গ্রুপের বনভোজন
আনন্দ, সম্প্রীতি ও বন্ধনের রঙে রাঙানো কয়েকটি ঘন্টা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী
লন্ডন: লন্ডন রেডব্রিজ ফেয়ারলপ ওয়াটার কাউন্ট্রি পার্ক যেন কয়েক ঘন্টার জন্য রূপ নিয়েছিল ক্ষুদ্র এক বাংলাদেশে। রবিবার, বিকেলে হ্রদের তীর ঘেষে প্রকৃতির সবুজ চাদর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরে মিলিত হয়েছিলেন নানা বয়স, নানা পেশা ও নানা অভিজ্ঞতার মানুষ। হাসি, আনন্দ, আড্ডা আর পারস্পরিক ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠেছিলো হরাইজন গ্রুপের বার্ষিক বনভোজন।

হরাইজন গ্রুপের সংগঠক এরিনা সিদ্দিক সুপ্রভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ বনভোজন ছিল প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও একঘেয়েমি থেকে কিছুটা মুক্তির নির্মল আয়োজন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ভিড় জমিয়েছিলেন পার্কের সবুজ চত্বরে। শিশুদের কোলাহল, তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্য এবং প্রবীণদের স্নেহমাখা উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল খাওয়া দাওয়া খেলাধুলাও বিনোদনসহ মনোমুগ্ধকর আড্ডার আয়োজন। শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর হাসির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। অন্যদিকে, বড়রা স্মৃতিচারণ, গল্প আর পরস্পরের খোঁজখবর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কাটান আনন্দঘন সময়। প্রবাসের দূরত্ব ভুলে সবাই যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবের সেই চিরচেনা গ্রামীণ বনভোজনের আবহে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা। সুস্বাদু দেশীয় খাবারের সুবাস ও আপ্যায়ন অতিথিদের মুগ্ধ করে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রবাসে এমন আয়োজন কেবল বিনোদনের উপলক্ষ নয়; এটি মানুষে মানুষে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করে, নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অফ রেডব্রিজের কাউন্সিলার সৈয়দা ফেরদৌসি পাশা, প্রবীন কমিউনিটি নেতা শাহগীর বখত ফারুক, মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক দেওয়ান গৌস সুলতান, রাজনীতিক মারুফ চৌধুরী, সত্যবাণী সম্পাদক, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, সংগঠক ইসমাইল হোসেইন ও সংস্কৃতিকর্মী মুজিবুল হক মনিসহ অনেকে।

আয়োজক এরিনা সিদ্দিক সুপ্রভা বনভোজন সফল করতে সহযোগিতা করা সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানুষে মানুষে সম্পর্কের উষ্ণতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই হরাইজন গ্রুপের মূল শক্তি। আজকের এই বনভোজন সেই বন্ধনকে আরও গভীর ও অর্থবহ করেছে।”
বিকেলের সোনালি আলো যখন ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আবরণে হারিয়ে যাচ্ছিল, তখনও অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। স্মৃতির ঝুলিতে জমা পড়েছিল অসংখ্য আনন্দঘন মুহূর্ত। বিদায়ের ক্ষণে সবার কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা—আবারও এমন একটি দিনে, এমনই এক মিলনমেলায়, সবাই একসঙ্গে হবে।
ফেয়ারলপ ওয়াটার কাউন্ট্র্ পার্ক হরাইজন গ্রুপের এই বনভোজন শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান ছিলোনা, এটি যেন ছিল প্রবাসের মাটিতে হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের মিলনের এক অনন্য উৎসব, সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।