শিকড়ের টানে এক মঞ্চে মেয়র, লর্ড মেয়র ও কাউন্সিলাররা
লন্ডনে সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতির সংবর্ধনা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী
লন্ডন: হাজার মাইল দূরে প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়েও শিকড়ের টান যে কখনো মুছে যায় না, তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছিল লন্ডনের এক আবেগঘন আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতি, লন্ডন এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মাননা জানালো ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সৈয়দপুর গ্রামের কৃতী সন্তানদের।
রবিবার পূর্ব লন্ডনের গ্রীনফিল্ড স্ট্রিটস্থ মায়েদা ব্যাংকুয়েটিং হলে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা যেন ছিল শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সাফল্যের এক হৃদয়স্পর্শী মিলনমেলা। প্রায় সাত দশকের ইতিহাস বহনকারী কমিউনিটি সংগঠন সৈয়দপুর শামসিয়া সমিতি তাদের গর্বিত সন্তানদের সম্মান জানিয়ে তুলে ধরলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

ব্রিটেনের সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিভিন্ন কাউন্সিল থেকে নির্বাচিত জগন্নাথপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামের নয়জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধি এই সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় গর্ব, আবেগ ও অনুপ্রেরণার এক মহামিলনক্ষেত্রে।
সংবর্ধনা পাওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন পোর্টসমাউথের লর্ড মেয়র কাউন্সিলার আব্দুল কাদির, কিডারমিনিস্টারের সিভিক মেয়র কাউন্সিলার সাজু মিয়া, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিলড্রেন সার্ভিসের কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার ফয়সল আহমদ, রেডব্রিজ কাউন্সিলের হাউজিং বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলার সৈয়দা সায়মা আহমদ, কাউন্সিলার সৈয়দা ফেরদৌসী পাশা, কাউন্সিলার কামাল কোরেশী, নিউহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলার সৈয়দ হোসেন আহমদ, ডারলিংটন বারা কাউন্সিলের কাউন্সিলার সাজনা আলী এবং ইস্ট স্ট্যাফোর্ডশায়ার কাউন্সিলের কাউন্সিলার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি পীর আহমদ কুতুবের সভাপতিত্বে এবং আহমেদ ময়েজ, সৈয়দ হিলাল সাইফ ও সৈয়দ সফর আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সৈয়দপুর গ্রামের সন্তানদের এই সাফল্য শুধু একটি গ্রামের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তাঁদের নেতৃত্ব, মেধা ও জনসেবার মানসিকতা প্রমাণ করেছে যে প্রবাসের মাটিতেও বাংলাদেশিরা নিষ্ঠা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে বারবার উচ্চারিত হয়েছে শিকড়ের কথা, জন্মভূমির কথা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অর্জন তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে সমাজসেবা, নেতৃত্ব ও মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে।
বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সৈয়দপুর আজ তার সন্তানদের সাফল্যে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয়ে উজ্জ্বল। লন্ডনের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুধু সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন নয়, এটি শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা, ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগামী দিনের স্বপ্ন নির্মাণের আমাদের এক আবেগময় অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত মেয়র-কাউন্সিলারদের হাতে ফুল ও প্রশংসাপত্র তুলে দেয়া হয়।