৩০০-এরও বেশি বাসিন্দাকে সহায়তাঃ সফল প্রথম বছর উদযাপন করলো ‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

টাওয়ার হ্যামলেটসঃ টাওয়ার হ্যামলেটসের ‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’ (Connect to Work) কর্মসূচির প্রথম বছরের সাফল্য উদযাপন করতে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে একত্রিত হন বাসিন্দা, নিয়োগকর্তা,অংশীদার সংস্থা এবং কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে কর্মসূচির প্রথম বছরের অর্জনগুলো তুলে ধরা হয় এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

কর্মসংস্থানের পথে বাসিন্দাদের সহায়তা

‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’ হলো সরকার-অর্থায়িত একটি সহযোগিতামূলক কর্মসংস্থান কর্মসূচি, যা প্রতিবন্ধকতা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাধার মুখোমুখি বাসিন্দাদের সহায়তা প্রদান করে।স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন,নিয়োগকর্তা এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এই কর্মসূচি বাসিন্দাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে,বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে সহায়তা করে।কর্মসংস্থান,স্বাস্থ্য ও সুস্থতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, এই সহায়তা এমন সেবা ও কমিউনিটি পরিবেশের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যেগুলোর সঙ্গে বাসিন্দারা পরিচিত এবং যেগুলোর ওপর তাদের আস্থা রয়েছে।বর্তমানে কর্মসূচির দলটি ১১টি কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জিপি সার্জারি, জব সেন্টার, প্রবেশন সার্ভিস, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সেবা কেন্দ্র, কমিউনিটি সংগঠন এবং তরুণদের সেবা কেন্দ্র।২০২৫ সালের জুলাই মাসে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’ টাওয়ার হ্যামলেটসের শত শত বাসিন্দাকে সহায়তা দিয়েছে। প্রথম বছরে মোট ৩১৩ জন ব্যক্তি এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের কর্মজীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেছেন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে ছিলেন ১৫৭ জন দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা ব্যক্তি, ৮০ জন তরুণ, ৩৮ জন পরিচর্যাকারী (কেয়ারার), ২১ জন কমিউনিটি সাজা ভোগরত ব্যক্তি এবং মাদকাসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় থাকা ৫ জন বাসিন্দা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই একাধিক ও পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিলেন। সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ, নিউরোডাইভারজেন্ট ব্যক্তি এবং শেখার প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।প্রথম বছরে কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, কর্মসংস্থান এবং স্বেচ্ছাসেবী খাতের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তাদের ডেলিভারি পার্টনারশিপের মধ্যে প্রথম বারা হিসেবে প্রবেশন সার্ভিসের ভেতরে কর্মসংস্থান উপদেষ্টাদের সহ-অবস্থান (কো-লকেশন) নিশ্চিত করেছে।এছাড়া একটি নিবেদিতপ্রাণ জিপি ক্লিনিক্যাল লিড নিয়োগ, কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে বাসিন্দাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

২০২৬ থেকে ২০৩০: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০৩০ সালের মধ্যে ‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’ কর্মসূচি পুরো বারা জুড়ে আরও শক্তিশালী অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠা, বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের ফলাফল উন্নত করা, অর্থনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কমানো এবং কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য সহায়তার সমন্বিত একটি টেকসই মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।কর্মসূচির একজন অংশগ্রহণকারী আজা লকহার্ট বলেন, “আমি যখন কানেক্ট টু ওয়ার্কে আসি, তখন শুধু একটি চাকরি খুঁজছিলাম না, বরং জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব সেটাই জানতাম না। স্বাস্থ্যগত একটি ঘটনার পর আমি আর আগের মতো এইচআর-এর কাজ করতে পারছিলাম না। আমার আত্মবিশ্বাসও আগের মতো ছিল না।শুরু থেকেই আমি অনুভব করেছি যে যিনি আমাকে আমার উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, তিনি সত্যিই আমার প্রয়োজনগুলো বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি আমাকে শুধু একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখেননি, বরং একজন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কাজ আমাদের জীবনমানকে প্রভাবিত করে। তাই আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল না যেকোনো একটি চাকরি খুঁজে পাওয়া। বরং এমন একটি কাজ খুঁজে পাওয়া, যা আমার জীবনের স্বপ্ন ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মানানসই, যেখানে আমি বিকশিত হতে পারব এবং সত্যিই কাজটি উপভোগ করতে পারব। তিনি আমাকে এখানকার চাকরির বাজার সম্পর্কে জানতে, নতুন বিভিন্ন প্রক্রিয়া বুঝতে এবং শুধু টিকে থাকার বাইরে গিয়ে আমার ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তা কল্পনা করতে সাহায্য করেছেন।টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চাকরি, উদ্যোগ, দক্ষতা ও প্রবৃদ্ধি বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর শেনালি মিয়া বলেন, “গত এক বছরে ‘কানেক্ট টু ওয়ার্ক’ দেখিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন এবং নিয়োগকর্তারা যখন একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তখন কত বড় পরিবর্তন সম্ভব। উদযাপন অনুষ্ঠানটি কর্মসূচিটি কীভাবে ইতোমধ্যেই মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের পথে থাকা বাধাগুলো অতিক্রম করতে সহায়তা করছে, তা তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ ছিল।তিনি বলেন, “অংশগ্রহণকারীদের মুখ থেকে সরাসরি এর ইতিবাচক প্রভাবের গল্প শোনা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আগামী বছরগুলোতে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে এই কর্মসূচির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা দেখতে আমি আগ্রহী।

You might also like